দয়া (পাঠ ৪)

হিন্দুধর্ম ও নৈতিক মূল্যবোধ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

209

কারও কষ্ট দেখলে মন কাঁদে। তার কষ্ট দূর করে দিতে ইচ্ছা হয়। মনের এ ভাবকে বলা হয় দয়া।

দয়া একটি নৈতিক গুণ। সমাজের জন্য একটি প্রয়োজনীয় প্রবৃত্তি হচ্ছে দয়া। দয়া করা হয় কাকে? যে ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে, তাকে খাদ্য দিয়ে আমরা দয়া করি।
আমরা জানি, জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন। তাই জীবকে দয়া করলে, জীবের দুঃখ দূর করলে, ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। ঈশ্বর নিজেই দরিদ্ররূপে ঘুরে বেড়ান দয়া পাবেন বলে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়:

'জগতে দরিদ্ররূপে ফিরি দয়া তরে,
গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে।'

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু দয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেছেন। ভগবানের নামে রুচি, জীবের প্রতি দয়া এবং বৈষ্ণবরূপে মানুষের সেবা করাকে তিনি সনাতন ধর্ম অর্থাৎ হিন্দুধর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে তার শিক্ষা হচ্ছে:

'নামে রুচি জীবে দয়া বৈষ্ণব সেবন।
ইহা হৈতে ধর্ম আর নাহি সনাতন।।'

মোটকথা, দয়ার প্রবৃত্তির দ্বারা আমাদের মন কোমল ও সহানুভূতিশীল হয়। দয়ার দ্বারা সমাজের মঙ্গল হয়। শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য, রাজা হরিশ্চন্দ্র, মহাবীর কর্ণ প্রমুখ দয়ার বহু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরাও আমাদের জীবনে ও সমাজে দয়ার আদর্শের প্রতিফলন ঘটাব।

একক কাজ: নিজের বা অন্যের জীবন থেকে জীবসেবা ও দয়ার দুটি করে ঘটনা উল্লেখ কর।

নতুন শব্দ: প্রবৃত্তি, রুচি, সহানুভূতিশীল, প্রতিফলন।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...